শনিবার ১৩ জুন ২০২৬
Online Edition

ইসলামে জবরদস্তি ও কূটকৌশল

হাসনা হেনা

ধর্মান্তরিত হওয়া এবং ধর্মান্তরিত করা এই চিন্তা-চেতনা সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী। কারণ একটা মানুষ জন্ম গ্রহণ করে একটি নির্দিষ্ট দেশ, ধর্ম, ভাষা ও একটি নির্দিষ্ট জাতি সওা নিয়ে। তাকে জবরদস্তি কিংবা কুটকৌশলে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করার মানেই হচ্ছে তার সব কিছুতে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়া। ইসলাম অর্থ শান্তি যেখানে আছে একটি নির্দিষ্ট জীবন বিধান যার ভিত্তি একটা ঐশী গ্রন্থ আল কুরআন। প্রচারেই প্রসার যা হচ্ছে ধর্মীয় কলেবর বৃদ্ধির একটা শক্ত হাতিয়ার। প্রচারের মাধ্যমে ধর্মান্তরিত করার বিষয়টি ইসলাম ও খৃষ্টান দুই ধর্মেই সমানভাবে লক্ষ্যণীয়। হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর জীবদ্দশায় ইসলামের প্রচার ও প্রসার ঘটেছিল সহজে ও সন্তর্পণে যেখানে কোন কৌশল অবলম্বন করা হতো না। বাংলাদেশ ও ভারতবর্ষে সাহাবিদের বা তাদের অনুসারীদের আগমন ঘটেছে। আবার এখানকার মানুষেরা মক্কা মদিনায় গিয়ে সরাসরি হজরত মুহাম্মদ (সা.) ও তার পরবর্তী যুগে খলিফাদের বাইয়াত হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় কেরালার রাজা পেরুমাল প্রজাদের নিয়ে সরাসরি মুহাম্মদ (স.) এর হাতে বাইয়াতে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। এছাড়া বর্তমানে অনেকেই নানা কারণে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হচ্ছেন। যেমন কুরআনের দোষ খুঁজতে গিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন ডঃ গ্যারি মিলার অথচ উনি ছিলেন খৃষ্টা ধর্ম প্রচারক। জীবনের সব  রহস্য কুরআনে খুঁজে পেয়ে কেনিয়ান যুবক অস্টিন আমানি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। বিখ্যাত বটিশ পপ তারকা ক্যাট ইভান্স মুসলিম হয়ে নাম রাখেন ইউসুফ ইসলাম। ফাদার হিলারিয়ন হেগি নামে যুক্তরাষ্ট্রের একজন বিশিষ্ট ধর্মযাজক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর তিনি নিজের নাম রেখেছেন সাইদ আব্দুল লতিফ। 

বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী ডঃ হেনরী লারসন মুসলমান হয়ে নাম রাখেন আবদুল হক। বৃটিশ অভিনেত্রী রোজালি তুরস্কে ট্রাভেল করতে এসে ব্লু মস্ক দেখার পর  স্বেচ্ছায় ধর্মান্তরিত হওয়ার ক্ষেত্রে ড. শিবসুন্দর স্বরুপজীর ধর্মান্তরিত হওয়ার বিষয়টি সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য এবং আলোচিত যিনি ছিলেন হিন্দু ধর্মের পূজনীয়  ভগবান  সমতূল্য। ইসলাম গ্রহণের পর তার নাম রাখা হয় ড. ইসলামুল হক। জানা যায়,  উনি নবী করিম (সাঃ) কে স্বপ্নে দেখে ছিলেন এবং স্বপ্নের মাধ্যমে উনি কালেমার শ্বাশত বানী ওনাকে মুগ্ধ করেছিল এবং মুসলমান হয়ে ছিলেন। কাজেই আমরা দেখতে পাচ্ছি উপরোক্ত ব্যাক্তিগন প্রত্যেকে নিজ নিজ চিন্তা শক্তির মাধ্যমে ধর্মান্তরিত হয়েছেন।

অনুকরণ ও অনুসরণ যেন ও বুদ্ধি প্রসারের আরেকটা ভিত্তি যা ধর্ম প্রচারের ক্ষেএে পুরো পুরি মিলে যায়। সেই দিক থেকে ফরিদপুরে সুফি-সাধক বেশে অপ্রাপ্ত বয়স্ক সুন্দরী রমনীদের খৃষ্টান ধর্মে দীক্ষিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে যা সত্যিকার অর্থে দুঃখ জনক। সেই সুফি-সাধকের পরনে থাকে সাদা পোশাক মুখ ভর্তি থাকে সাদা গোফ। তাদের সঙ্গে সাদা পোশাক পরিহিত রমনীরাও আছে। তাদের প্ররোচনায় কয়েকজন মুসলমান খৃষ্টান ধর্ম গ্রহণও করেছেন। রওশন আরা নামে এক মহিলার অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েকে ধর্মান্তরিত করেন এই তথাকথিত সুফি-সাধকরা। মহিলা ফরিদপুর কোর্টে মামলা করেন যা বর্তমানে চলমান। জানা গেছে, ফরিদপুর সদর উপজেলার একটি গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্তরা একজন পীরের ভক্ত দাবি করে বলেছেন যে তারা বিশেষ বিশেষ দিনে কাফনের কাপড় পরেন। ইসলাম ধর্মে এই ধরনের কাফনের কাপড় বা সাদা পোষাক পরার রেওয়াজ নেই। কাউকে তা পালন করতেও শোনা যায় না।  

ধর্মান্তরিত করার জন্য খৃষ্টানরা বেছে নেয় হয় অপ্রাপ্ত বয়স্ক, রোগাক্রান্ত, অভাবী মানুষদের। সেবা ও সহযোগিতার  নামে তারা কৌশলে কাজটি করে। এই কুট কৌশলের স্থান ইসলাম ধর্মে নেই। যেখানে স্বয়ং আল্লাহ বলেন,”হে ইমানদারগণ তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যেসব দেব দেবীর পূজা অর্চনা করে তোমরা তাদের গালি দিও না। যাতে তারা শিরক থেকে আরও অগ্রসর হয়ে অজ্ঞতাবশত আল্লাহকে গালি দিয়ে না বসে” সুরা আনআম আয়াত ১০৮। কুরআনের বানী ও ইজ্জত রক্ষার দায়িত্ব প্রতিটা মুসলমানের কাজেই যে কোন মূল্যে এইরকম অপতৎপরতা বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে, রক্ষা করতে হবে ইসলাম ধর্ম এবং  মুসলমানদের।

লেখিকা : অধ্যাপিকা

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ